রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১০

সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০১০

গ্রীনিচ থেকে নয় বরংপবিত্র কা'বা শরীফ থেকে হওয় উচিত পৃথিবীর সকল অঞ্চলের প্রমাণ সময়(Standard Time)।



গ্রীনিচ থেকে নয় বরং পবিত্র কা’বা শরীফ থেকে হওয়া উচিত পৃথিবীর
সকল অঞ্চলের প্রমাণ সময় 
(Standard Time) নির্ধারণঃ
সমস্ত প্রশংসা ঐ মহান রাব্বুল আলামীন-এর যিনি এই বিচিত্র, হেকমতপূর্ণ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণ, রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন। আসলে মহান রব্বুল আলামীন এবং তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এই সৃষ্টি জগত গঠনের বিন্যাস বা প্রক্রিয়া মানুষের কাছে যতটুকু প্রকাশ করতে চান ততটুকুই মানুষ জানতে পারেন। শুধু সৃষ্টি জগতের গঠন নয় বরং যেকোন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করতে হলে প্রথমেই দেখতে হয় কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফে সে ব্যাপারে কি রয়েছে, পরবর্তীতে সেই বর্ণনা নিজের প্রজ্ঞা, বিবেক, আক্বল, সমঝ দিয়ে বুঝে নিতে হয়।
কুরআন শরীফের সূরা আল ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “প্রকৃতপক্ষে, মানবজাতির জন্য প্রথম যে ঘর তৈরি করা হয়েছিল তা হচ্ছে এই বাক্কা বা মক্কা শরীফ। যা নিয়ামত দ্বারা পূর্ণ এবং মানব ও জীন জাতির জন্য পথ প্রদর্শক।” এই আয়াত শরীফে তিনটি বিষয় সুস্পষ্ট।
১. মক্কা শরীফ মানবজাতির জন্য নির্মিত প্রথম ঘর।
২. মক্কা শরীফ নিয়ামত দ্বারা পরিপূর্ণ।
৩. মানুষ ও জিন জাতির জন্য পথ প্রদর্শক।
এখানে পথ প্রদর্শক বলতে কিন্তু বিভিন্ন বিষয়েরই পথ প্রদর্শক বোঝানো হয়েছে। এই পথ প্রদর্শন হিদায়েতের। এই পথ প্রদর্শন দিকের (ক্বিবলা)। এই পথ প্রদর্শন সময়ের, এই পথ প্রদর্শন সর্বোপরি মুক্তি ও কল্যানের।
যেহেতু কুরআন শরীফেই স্পষ্টভাবে কা’বা শরীফকে পথ প্রদর্শক বলা হয়েছে। সুতরাং মানবজাতির বিভিন্ন বিষয়ের পথ প্রদর্শন যেমন সঠিক সময় নিরুপণ করে কাজকর্ম সম্পাদন করা, যাতায়াত করা, সমুদ্র পথে চলতে গিয়ে গন্তব্যের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা, ইত্যাদির পথ প্রদর্শনও কা’বা শরীফকে কেন্দ্র নির্ণয় করা সম্ভব। বর্তমানে গ্রীনিচ সময়কে আদর্শ ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন সময় অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গ্রীনিচের অবস্থান ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায় ধরে নাবিকরা সমুদ্রে তাদের অবস্থান নির্ণয় করে। অথচ আমরা মনে করি কা’বা শরীফকে কেন্দ্র করেই যেখানে সমস্ত পৃথিবীর বিভিন্ন সময় অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করে সঠিক পথ প্রদর্শন করা সম্ভব সেখানে গ্রীনিচ থেকে প্রমাণ সময় নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অনুচিত। আমরা বিশদ আলোচনা যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো যে গ্রীনিচ থেকে নয় বরং পবিত্র কা’বা শরীফ থেকে হওয়া উচিত পৃথিবীর সকল অঞ্চলের প্রমাণ সময় (ঝঃধহফধৎফ ঞরসব) নির্ধারণ।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যখন ফযরের ওয়াক্ত হয় সেই সময়টা সারা বছরের মধ্যে সর্বপ্রথম শুরু হয় জুন মাসে ৩টা ৪৪ মিনিট থেকে এবং সর্ব দেরীতে হয় জানুয়ারী মাসে ৫টা ২৫ মিনিটের মধ্যে। পৃথিবীর যে অক্ষাংশে বাংলাদেশের অবস্থান সেই একই অক্ষাংশে সব দেশে ফযরের ওয়াক্ত কাছাকাছি সময়েই হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন ৩টা ৪৪ মিনিট থেকে ৫টা ২৫ মিনিটের মধ্যেই প্রতি বছর ফযরের ওয়াক্ত হয়ে থাকে। কেন সকাল ১টা ৪৪ মিনিট থেকে সকাল ৩টা ২৫ মিনিটের মধ্যে নয় বা ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে নয়। উত্তর খুব সহজ।
ঢাকা শহরের আকাশের মাথায় যখন সূর্য আসে অর্থাৎ যখন মধ্যাহ্ন হয় তখন আমরা ধরে নেই ঘড়িতে দুপুর ১২টা বা কাছাকাছি বাজে। মধ্যাহ্নকে দুপুর ১২টা হিসেবে ধরলে সময়ের পরিক্রমায় ফযরের সময়ে ঘড়ির কাটা ফযরের ওয়াক্তের ক্ষেত্রে সারা বছরে ৩টা ৪৪ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যেই থাকবে। কিন্তু আমরা যদি মধ্যাহ্ন বলতে দুপুর ১২টা না ধরে অন্য একটি অঙ্ক দিয়ে অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪ এরকম যে কোন একটি দিয়ে শুরু করি তবে দেখবো ফযরের ওয়াক্তের সময় অন্য রকম প্রকাশ করছে। কিন্তু কেন ঢাকার মাথার উপরে সূর্য আসলে অর্থাৎ মধ্যাহ্ন হলেই দুপুর ১২টা ধরেই ঘড়ির হিসেব ঠিক করি সেটাই জানার বিষয়। কেন মধ্যাহ্ন বলতে ১টা হয় না বা অন্য কোন সময় হয় না।
ইংল্যান্ডের গ্রীনিচ রয়েল অবজারভেটরীর মাথার উপর যখন সূর্য আসে তখন তারা মধ্যাহ্ন ১২টা দিয়ে গণনা শুরু করে এবং পৃৃথিবীর সকল অঞ্চলের মাথার উপর যখন সূর্য আসবে তখন মধ্যাহ্ন ১২টা হবে এটাই পৃথিবীকে শেখানো হয়েছে  আর আমরা সেভাবেই অভ্যস্ত হয়েছি। শুধু কি তাই? গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান গেছে কল্পনা করে ইংল্যান্ড/আমেরিকা গ্রীনিচের অবস্থান নির্ণয় করেছে ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায়। গ্রীনিচের দ্রাঘিমা ০০ ডিগ্রী ধরে সেখান থেকে ১৫০ ডিগ্রী অন্তর অন্তর ভাগ করে সমস্ত পৃথিবীকে ২৪টি সময় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। ফলে আমরা যখন ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখি মধ্যাহ্ন দুপুর ১২টা এর অর্থ গ্রীনিচে তখন সময় সকাল ৬টা। অর্থাৎ আমাদের সময়= এগঞ(এৎববহরিপয সবধহ ঃরসব) +৬ এভাবে গ্রীনিচের পূর্বের দেশগুলোর সময় ভাগ করা হয়েছে গ্রীনিচের সময়ের সাথে সর্বোচ্চ ১২ ঘন্টা যোগ করে এবং গ্রীনিচের পশ্চিমের দেশগুলোতে সর্বোচ্চ ১২ ঘন্টা বিয়োগ করে। আজ আমাদের যে কোন স্থানের সময় নিরুপণ করতে চাইলে এই GMT-এর সাথে যোগ বিয়োগ করে সেই স্থানের বা দেশের সময় নিরুপন করতে হয়। কিন্তু পৃথিবীটাতো আর বৃটিশ, আমেরিকানদের কেনা নয়, পৈত্রিক সম্পত্তিও নয় যে তাদের ইচ্ছামাফিক তাদের কোন স্থানের সময়কে ধরে সারা পৃথিবীর সময় নির্ধারণ করতে হবে। বৃটিশরা তাদের ইচ্ছামাফিক তাদের দেশের গ্রীনিচের অবস্থান ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায় কল্পনা করে এবং তার উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান নির্ধারণ করে আনন্দে আত্মহারা।
কিন্তু মুসলমানদের কাছে গ্রীনিচের কোন মূল্য নেই। গ্রীনিচ ধরে সময় অঞ্চল ভাগ করার মধ্যে মুসলামনরা কোন আভিজাত্য খুঁজে পায় না। গ্রীনিচকে ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায় ধরে পুরো পৃথিবীকে ৩৬০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা রেখায় ভাগ করাতেও মুসলমানরা নারাজ। কেননা এই স্থানের কোন ধর্মীয় ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। নেই কোন সুন্দর ভৌগলিক অবস্থান। শুধু রাজনৈতিক কারণেই এই গ্রীনিচ ধরে আজ পৃথিবীর প্রমাণ সময় নির্ধারিত হচ্ছে।
আর সে কারণেই আমাদের এই আলোচনার প্রয়াস। আমরা উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি গ্রীনিচ নয় বরং পবিত্র কা’বা শরীফের অবস্থান হওয়া উচিত ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায়। পবিত্র কা’বা শরীফ থেকেই শুরু হবে সমস্ত পৃথিবীর সময় গণনা এবং সময় অঞ্চলে বিভক্তি। এই পবিত্র কা’বা শরীফের ঠিক উপরে সূর্য আসলেই হবে মধ্যাহ্ন তবে তা দুপুর ১২টা নয় বরং ভিন্ন অংক। যেহেতু মুসলমানরা কাফির মুশরিকদের খিলাফ করবে এবং চলবে।
আলোচনাকে সহজ করার লক্ষ্যে আমরা এখানে প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ই উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।
মেরিডিয়ান ও পৃথিবীর মূল মধ্যরেখাঃ
 ভূ-পৃষ্ঠের কোন নির্দিষ্ট স্থানের উপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ মেরু সংযোজক যে বৃত্তরেখা কল্পনা করা হয় তাকে মেরিডিয়ান বলে। মধ্যাহ্নে সূর্য যে সর্বোচ্চ স্থানে পৌছে, সেই স্থানটি সেই এলাকার মেরিডিয়ান। গ্রীনিচের উপর দিয়ে যাওয়া মেরিডিয়ানকে বলা হয় চৎরসব গবৎরফরধহ বা মূল মধ্যরেখা। পৃথিবীর মূল মধ্য রেখাকে আন্তর্জাতিক মধ্যরেখা বা গ্রীনিচ মধ্যরেখাও বলে। মূল মধ্যরেখা হচ্ছে আসলে দ্রাঘিমা রেখা বা লন্ডনের রয়েল গ্রীনিচ অবজারভেটরীর মধ্য দিয়ে বা উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। মূল মধ্যরেখাকে ০০ ডিগ্রী ধরা হয় এবং তার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। মূল মধ্যরেখাকে ০০ ডিগ্রী ধরা হয় এবং তার ঠিক বিপরীতে রয়েছে ১৮০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা রেখা যা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে বিবেচিত। এই মূল মধ্যরেখা পৃথিবীকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে। একটি পূর্ব গোলার্ধ অপরটি পশ্চিম গোলার্ধ।



গ্রীনিচ মেরিডিয়ানের ইতিহাস:
 গ্রীনিচ রয়েল অবজার ভেটরি প্রতিষ্ঠিত হয় বৃটিশের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের মাধ্যমে ১৬৭৫ সালে। সমুদ্রপথে নাবিকদের চলাচলের সুবিধার জন্যে এবং নির্দিষ্ট কোন স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্যে প্রথম এই অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রীনিচ মেরিডিয়ানকে মূল মধ্যরেখা (চৎরসব গবৎরফরধহ) হিসেবে পছন্দ করা হয় ১৮৮৪ সালে। সে সময়কার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট চেষ্টার এ আর্থারের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৫টি দেশের ৪১ জন প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে মিলিত হয়। গ্রীনিচকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে বিবেচনার জন্যে অর্থাৎ ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা হিসেবে কল্পনা করার জন্যে ভোটের আয়োজন করা হয়। ২২টি দেশ পক্ষে ভোট দেয় এবং সান্তা দমিগো বিপক্ষে ভোট দেয়। ফ্রান্স ও ব্রাজিল ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। গ্রীনিচ, প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে জয়লাভের পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল।
প্রথমত: গ্রীনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে নির্ধারণ করার পূর্ব থেকেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রীনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান ধরে তাদের টাইম জোন সিস্টেম চালু করেছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল।
দ্বিতীয়ত: সে সময়ে ৭২ ভাগ ব্যবসা হত সমুদ্রপথে এবং সে সময়কার নাবিকরা তাদের মানচিত্রে গ্রীনিচকে মূল মধ্যরেখা ধরেই কোন স্থানের অবস্থান নির্ণয় করতো।

গ্রীনিচের বহু পূর্ব থেকেই ইতিহাস খ্যাত অনেক স্থানকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে:
ইতিহাসে দেখা গেছে বিভিন্ন মানচিত্রে মূল মধ্যরেখা হিসেবে বিভিন্ন স্থানের দ্রাঘিমা রেখা ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি মানচিত্রে গ্রীনিচের উপর দিয়েই চারটি মেরিডিয়ানের ব্যবহার দেখা যায়। ১৮৮৪ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মেরিডিয়ান সম্মেলনে ফ্রান্স ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে এবং প্রায় কয়েক দশক ধরে প্যারিস মেরিডিয়ানকে তারা মূল মধ্যরেখা বা চৎরসব গবৎরফরধহ হিসেবে ব্যবহার করে। গ্রীনিচ মেরিডিয়ানের পূর্বে কয়েকটি স্থান রেফারেন্স মেরিডিয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হত। যেমন আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, মাদ্রিদ, প্যারিস, রোম, লিসবন ইত্যাদি।

টাইম জোন বা সময় অঞ্চলের ইতিহাস:
উনিশ শতকের পূর্বেও ঘড়ির সময় ঠিক রাখা হতো আঞ্চলিক সময়ের উপর নির্ভর করে। প্রতিটি শহরের মাথার উপরে যখন সূর্য আসতো তখন মধ্যাহ্ন ধরে শহরের বাসিন্দারা ঘড়ির সময় ঠিক করে নিত। কোন কোন শহরের মধ্যে স্থাপিত ছিল নগর ঘড়ি। সেই ঘড়ির সময় মধ্যাহ্নে ঠিক করা হলে শহরবাসীরা নগর ঘড়ির সময় দেখে তাদের নিজ নিজ ঘড়ির সময় ঠিক করে নিত। এ ছাড়াও ছিল একদল ভ্রাম্যমান ঘড়ির লোক। তাদের নিজেদের ঘড়িতে সময় ঠিক করে নিয়ে বাসায় বাসায় গিয়ে ঘরের ঘড়িগুলোর সময় ঠিক করে দিত। যখন রেলপথ চালু হল তখন দ্রুত অনেক দূরের পথে মানুষ যাওয়া আসা শুরু করলো। সে সময় বিভিন্ন অঞ্চলের বা স্টেশনের সময়ের পার্থক্যের জন্য মানুষ বেশ বিভ্রান্তিতে পড়তো। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ১৮৭৮ সালে একজন কানাডার নাগরিক স্টেনফোর্ড ফ্লেমিং পৃথিবী ব্যাপি সময় অঞ্চলে বিভক্তির ধারণা প্রস্তাব করে। যা আজও কিছুটা সংশোধনীসহ পৃথিবীতে চালু রয়েছে। স্টেনফোর্ড ফ্লেমিং এর ধারণা অনুযায়ী যেহেতু পৃথিবীতে দিন-রাত্রি মিলে হয় ২৪ ঘণ্টা, সেহেতু তিনি পৃথিবীকে ২৪টি সময় অঞ্চলে ভাগ করার প্রস্তাব দেন। যদি পৃথিবীকে ৩৬০০ ডিগ্রী­­ দ্রাঘিমায় ভাগ করা হয় তবে এক ঘণ্টার জন্য একটি সময় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ ডিগ্রী। যদিও পরে রাজনৈতিক কারণে এই সময় অঞ্চল বেড়ে ২৪টি থেকে ৩৯টি হয়েছে। ১০ ডিগ্রী দ্রাঘিমার জন্য যেহেতু ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য ঘটে সেহেতু বিভিন্ন মধ্য রেখার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পার্থক্যের জন্য অসামঞ্জস্যতার সৃষ্টি হয়। এ অসুবিধা দূর করার জন্যে প্রত্যেক দেশের মধ্যবর্তী কোন মধ্যরেখার স্থানীয় সময়কে সমগ্র দেশের জন্য ব্যবহারিক সময়রুপে নির্দিষ্ট করা হয়।
এই সময়কে প্রমাণ সময় বলে। যেমন চীনে মোট পাঁচটি টাইম জোন থাকলেও তারা একটি টাইম জোন ব্যবহার করে।

প্রাইম মেরিডিয়ান এবং টাইম জোন:
কানাডার স্টেনফোর্ড ফ্লেমিং পৃথিবীকে ২৪টি সময় অঞ্চলে ভাগ করলেও তখনও কোন এলাকার সময়কে আন্তর্জাতিকভাবে আদর্শ সময় হিসেবে নির্ধারণ করে পৃথিবীব্যাপি বিভিন্ন অঞ্চলের প্রমাণ সময় ঠিক করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৮৮৩ সালের নভেম্বর থেকেই ফ্লেমিং এর টাইম জোন ধারণার ব্যবহার শুরু করে এবং তখন যুক্তরাষ্ট্র গ্রীনিচ মধ্যাহ্নকে আন্তর্জাতিক সময় ধরেই সময়ের ব্যবহার শুরু করে। আর সে কারণেই ১৮৮৪ সালের অক্টোবরে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অতি ইচ্ছার কারণেই ওয়াশিংটন ডি. সি তে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেরিডিয়ান সম্মেলনে গ্রীনিচ মেরিডিয়ানকে মূল মধ্যরেখা  হিসেবে ধরা হয় যা ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায় অবস্থিত বলে তারা সিদ্ধান্তে পৌছে এবং গ্রীনিচ মধ্যাহ্নকে আন্তর্জাতিক সময় ধরে পৃথিবীর সমস্ত টাইম জোন এর সময় নির্ধারণ করা হয়।




গ্রীনিচকে ০০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায় ধরে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করার কোন ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই:
গ্রীনিচের রয়েল অবজারভেটরি যাকে ০০ ডিগ্রী ০ মিনিট ০ সেকেন্ড দ্রাঘিমায় অবস্থান বলে ধরে নেয়া হয়েছে এবং যার উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করা হয়েছে সেই অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ১৬৭৫ সালে। ইতিহাসে একে প্রসিদ্ধ করতে গিয়ে যা বলা হয় তা আরও হাস্যকর। বলা হয়, এখানে জন্মেছে রাজা হেনরী-৮ এবং তার বোন মেরী এবং রাণী এলিজাবেথ-১। এদের কেউ পৃথিবীতে অনুসরনীয় মানুষ ছিল না। সুতরাং কোন বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বলে যে গ্রীনিচ থেকে চৎরসব গবৎরফরধহ কল্পনা করা হয়েছে তা নয়। ঐতিহাসিকরা মূলত দুটি কারণকেই চিহ্নিত করেছে।
প্রথমত: ১৮৮৪ সালের পূর্ব থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের টাইম জোন ব্যবহারে গ্রীনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলো। ফলে তাদের সুবিধাকে প্রতিষ্ঠা করতে ১৮৮৪ সালের অক্টোবরে প্রাইম মেরিডিয়ান সম্মেলনে তাদের মতের দেশগুলো থেকে সম্মতি আদায় করে। এটি মূল কারণ। কেননা স্প্যানিশ ভাষার দেশ সান্তা দমিন্ডো বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ব্রাজিলও ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। আর ফ্রান্সও ভোট দেয়া বিরত থাকে যেহেতু তারা পূর্ব থেকেই প্যারিস মেরিডিয়ানকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে ব্যবহার করছিলো। তাহলে দেখা যাচ্ছে ঐতিহাসিক কোন কারণ নয় বরং রাজনৈতিক কারণেই গ্রীনিচ মূল মধ্যরেখা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
দ্বিতীয় যে কারণটি বলা হয়, সে সময়কার ৭০ ভাগ ব্যবসা সম্পাদিত হত সমুদ্রপথে আর বেশীরভাগ মানচিত্রে দেখা গেছে নাবিকরা গ্রীনিচকে মূল্য মধ্যরেখা হিসেবে বিবেচনা করতো। এ কারণটি যথার্থ নয়। ইতিহাসে দেখা গেছে গ্রীনিচের পূর্বে ব্রাসেলস, কোপেনহেগেন, আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, লিসবন, মাদ্রিদ, অসলো, প্যারিস, রোম, স্টকহোম, উজেইন এ সকল এলাকাও প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুতরাং শুধু বৃটিশ, আমেরিকান বা ইউরোপীয় বনিকদের মানচিত্র দেখলেতো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছা যাবে না।

পৃথিবীকে গোলাকার কল্পনা করলে যে কোন স্থান থেকেই ০০ ডিগ্রী ধরে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করা যায়:

 পৃথিবী পৃষ্ঠের যে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে আমি পৃথিবীর কেন্দ্রে আছি তার দাবী একদিক থেকে সত্য কেননা সেই স্থানের ডানদিক থেকে যে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে সে তার অবস্থানে আসতে পারবে একইভাবে বামদিক থেকে ঠিক সে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে।
সুতরাং পৃথিবীর যে কোন স্থানের উত্তর-দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে মূল মধ্য রেখা হিসেবে কল্পনা করা যায়। কেউ যদি পৃৃথিবীর কোন একটি স্থানে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করে নেয় এবং সেই কল্পিত রেখার দুপাশে পা প্রশস্ত করে দিয়ে ভাবে তার একটি পা পূর্ব গোলার্ধে এবং অন্য পা পশ্চিম গোলার্ধে তবে তার এ ধারণাটিও সত্য যদিও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।
সুতরাং পৃথিবীর কোন একটি স্থানের উপর দিয়ে যদি মূল মধ্য রেখা কল্পনা করা হয় অর্থাৎ পৃথিবীর কোন একটি স্থানকে ০০ ডিগ্রী ০ মিনিট ০ সেকে- অবস্থানে কল্পনা করে যদি পৃথিবীকে ৩৬০০ ডিগ্রীতে বিভক্ত করতে হয় তবে এমন একটি স্থানকেই পছন্দ করা উচিত-
ক. যে স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম।
খ. যে স্থানের পবিত্রতা অপরিসীম।
গ. যে স্থানটি পূর্ব-পশ্চিমে সবার কাছেই অতি পরিচিত এবং গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত।
ঘ. সকল আহলে কিতাবের কাছেই যে স্থানের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
ঙ. সর্বোপরি যে স্থানটি ছাড়া আর কোন স্থানের এতটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই।

(ক) পৃথিবীর প্রাচীনতম স্থান পবিত্র কা’বা শরীফ:

মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন মুসলমানদের জন্য ক্বিবলা হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন বায়তুল্লাহ শরীফ অর্থাৎ কা’বা ঘরকে যা মক্কায় অবস্থিত। পৃথিবীর চতুর্দিক থেকে অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ থেকে সকল মুসলমান পবিত্র কা’বা ঘরের দিকে ক্বিবলা ঠিক করে ছালাত আদায় করে। পৃথিবীর যে পবিত্রস্থানে এই বায়তুল্লাহ শরীফ বা কা’বা ঘর তৈরী হয়েছে তা পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত এবং সেখান থেকে দু’পাশে পৃথিবী বিস্তৃত হয়েছে। সূরা আল ইমরানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, “প্রকৃতপক্ষে, মানবজাতির জন্য প্রথম যে ঘর তৈরী করা হয়েছিল তা হচ্ছে এই বাক্কা বা ম্কাক শরীফ। যা নিয়ামত দ্বারা পূর্ণ এবং মানবজাতির জন্য পথ প্রদর্শক। (সূরা আল ইমরান-৯৬)।
 সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কা’বা শরীফ ছিল পানির উপর একটি ছোট পাহাড় এবং তার নীচ দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়।” অর্থাৎ কা’বা শরীফের নীচের অংশটুকু ছিল পৃথিবীর প্রথম যমিন যা বিশাল সাগরের মাঝে প্রথম সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই পবিত্রস্থানের চতুর্পার্শ্বে তা বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং প্রথমে  একটি বিশাল মহাদেশের সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে বর্তমানে যে সাতটি মহাদেশ আছে সেগুলো মূলত একটি মহাদেশ ছিল যাকে বলা হয় গড়ঃযবৎ পড়হঃরহবহঃ বা চধহমধবধ। পরবর্তীতে এগুলো একে অপরের কাছে থেকে সরতে শুরু করে এবং বর্তমান অবস্থায় পৌছে।
মুল্লাহ আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব আল মাসলাক আল মুতাকাসিত ফি আল মানসাক আল মুতাওয়াসিত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব সৃষ্টির দু’ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ পাক পানির দিকে দৃষ্টি দেন তখন পানি ঘূর্ণায়মান এবং অশান্ত ছিল। সেখানে উজ্জল আলোর মত একটি বস্তু থেকে পৃথিবী সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তা চতুর্দিকে প্রসারিত হয়। সে কারণে মক্কাকে বলা হয় উম্মুল কুরা। পরবর্তীতে আল্লাহ পাক পাহাড় সৃষ্টি করলেন এবং পৃথিবী শান্ত হয়। প্রথমে যে পাহাড় সৃষ্টি হয় তা হচ্ছে, আবু কুবায়েস পাহাড়। আবু কুবায়েস পাহাড়ের পাশেই সৃষ্টি হয় বায়তুল্লাহ শরীফ।
হাদীছ শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে কুরাইশবাসী, হে মক্কা বাসী আপনারা সবাই আসমানের কেন্দ্রের সমান্তরাল এ দাঁড়িয়ে আছেন।” একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান বায়তুল মা’মুর কি? জবাবে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বলেন, আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম জানেন। তিনি বললেন, সেটা একটা ঘর সাত আসমানের উপর ঠিক কা’বা শরীফের উপরে অবস্থিত। যদি এটা পরে তবে ঠিক এখানেই পরবে। প্রতিদিন ৭০,০০০ ফেরেশ্্তা সেখানে প্রবেশ করেন। যারা একবার বের হয়ে আসেন তারা দ্বিতীয়বার আর প্রবেশ করেন না। এরকম আরও বিস্ময়কর ব্যাপার রয়েছে মক্কা শরীফের জন্য যেখানে পবিত্র কা’বা শরীফ অবস্থিত।
উপরের আলোচনা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে পবিত্র কা’বা শরীফ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম স্থানে অবস্থিত এবং আসমান-যমিনের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই স্থানের চেয়ে প্রাচীনতম স্থান আর কোথাও নেই।গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব সৃষ্টির দু’ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ পাক পানির দিকে দৃষ্টি দেন তখন পানি ঘূর্ণায়মান এবং অশান্ত ছিল। সেখানে উজ্জল আলোর মত একটি বস্তু থেকে পৃথিবী সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তা চতুর্দিকে প্রসারিত হয়। সে কারণে মক্কাকে বলা হয় উম্মুল কুরা। পরবর্তীতে আল্লাহ পাক পাহাড় সৃষ্টি করলেন এবং পৃথিবী শান্ত হয়। প্রথমে যে পাহাড় সৃষ্টি হয় তা হচ্ছে, আবু কুবায়েস পাহাড়। আবু কুবায়েস পাহাড়ের পাশেই সৃষ্টি হয় বায়তুল্লাহ শরীফ।
হাদীছ শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে কুরাইশবাসী, হে মক্কা বাসী আপনারা সবাই আসমানের কেন্দ্রের সমান্তরাল এ দাঁড়িয়ে আছেন।” একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান বায়তুল মা’মুর কি? জবাবে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বলেন, আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম জানেন। তিনি বললেন, সেটা একটা ঘর সাত আসমানের উপর ঠিক কা’বা শরীফের উপরে অবস্থিত। যদি এটা পরে তবে ঠিক এখানেই পরবে। প্রতিদিন ৭০,০০০ ফেরেশ্্তা সেখানে প্রবেশ করেন। যারা একবার বের হয়ে আসেন তারা দ্বিতীয়বার আর প্রবেশ করেন না। এরকম আরও বিস্ময়কর ব্যাপার রয়েছে মক্কা শরীফের জন্য যেখানে পবিত্র কা’বা শরীফ অবস্থিত।
উপরের আলোচনা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে পবিত্র কা’বা শরীফ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম স্থানে অবস্থিত এবং আসমান-যমিনের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই স্থানের চেয়ে প্রাচীনতম স্থান আর কোথাও নেই।

(খ) যে স্থানের পবিত্রতা অপরিসীম:
পবিত্র কা’বা শরীফ এমন একটি স্থান যেখানে প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম আলাইহিস্্ সালাম এই ঘর নির্মান করেছেন এবং তাওয়াফ করেছেন। এই পবিত্র কা’বা শরীফ স্পর্শ পেয়েছে যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল,আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যিনি এখানে উমরা করেছেন, তাওয়াফ করেছেন। এই কা’বা শরীফ-এর বিভিন্ন স্থানে দাড়িয়ে তিনি অসংখ্য অগনিত দুয়া করেছেন। প্রতিদিন অবারিত রহমত নেমে আসে এই কা’বা শরীফের উপর।

(গ) যে স্থানটি পূর্ব-পশ্চিমে সবার কাছেই অতি পরিচিত এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচিত:
পৃথিবীতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে যারা গ্রীনিচ এর অবস্থান কোন দেশে তা সঠিকভাবে বলতে পারবে না। এলাকাটির তেমন কোন ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই বলে ইহুদী খ্রীষ্টানদের প্রচার মাধ্যমে এ নিয়ে তেমন কোন আলোচনা হয় না। যতটুকু আলোচনা হয় তা হচ্ছে একে জোর করে বিখ্যাত বানাবার অপচেষ্টা নিয়ে। গ্রীনিচের উপর দিয়ে কল্পনা করা একটি রেখা নিয়ে মানুষের কোন আগ্রহ থাকার কারণ নেই। আমরা পূর্বেই বলেছি পৃথিবীকে ৩৬০০ ডিগ্রীতে ভাগ করলে যে কোন একজন মানুষ, যে কোন স্থানে দাঁড়িয়েই ভাবতে পারে সে ০০ ডিগ্রীতে দাঁড়িয়ে আছে আর তার চতুর্পার্শ্বে রয়েছে ৩৬০০ ডিগ্রীর দ্রাঘিমা রেখাসমূহ।
কিন্তু পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে মুসলমান কম বেশি নেই। তাদের ইবাদতের পদ্ধতিগুলো দেখেও মানুষ জানে মুসলমানরা পবিত্র কা’বা শরীফের দিকে মুখ ফিরিয়ে ছালাত আদায় করে। ইহুদী খ্রীস্টানদের প্রচার মাধ্যমেও ৯ই জিলহজ্জে হজ্জ অনুষ্ঠানের বিশদ বিবরণ পেশ করে। শুধু তাই নয় তাওরাত শরীফ ও ইঞ্জিল শরীফে পবিত্র কা’বা শরীফের এবং হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্্ সালাম-এর বর্ণনা থাকার কারণে তারা পবিত্র কা’বা শরীফের অবস্থান, মান-মর্যাদা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকেবহাল। এ ছাড়াও ভ্রমন পাগল ইহুদী খ্রীস্টানরা জানে পৃথিবীর যে কোন স্থানে তারা যেতে পারলেও একমাত্র মক্কা ও মদীনা শরীফে তাদের প্রবেশ নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু তাদের কাফির হবার কারণে, কারণ তাদের কুফরী তাদেরকে অপবিত্র করে দিয়েছে আর অপবিত্রদের স্থান মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফে নেই। যেহেতু মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ অতি পবিত্র স্থান। সুতরাং গ্রীনিচ নয় কা’বা শরীফই সর্বোত্তম স্থান যেখান থেকে সময় গণনা শুরু করা উচিত।

(ঘ) সকল আহলে কিতাবের কাছেই যে স্থানের গুরুত্ব রয়েছে:
প্রথম মানুষ, প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস্্ সালাম পবিত্র কা’বা শরীফ নির্মাণের পর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম-এর বন্যার সময় পবিত্র কা’বা শরীফ আর পূর্বের অবস্থায় থাকে না। পরবর্তীতে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্্ সালাম এই পবিত্র কা’বা ঘরের পুনঃ নির্মাণ করেন। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্্ সালাম-এর দুই সন্তান হযরত ইসমাইল আলাইহিস্্ সালাম এবং হযরত ইসহাক আলাইহিস্্ সালামকেও আল্লাহ পাক নবী হিসেবে কবুল করেছিলেন। হযরত ইসমাইল আলাইহিস্্ সালাম-এর বংশধরদের মধ্য থেকে আসেন আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইসহাক আলাইহিস্্ সালাম-এর বংশধরদের থেকে আসেন হযরত মূসা আলাইহিস্্ সালাম এবং পরে হযরত ঈসা আলাইহিস্্ সালাম।
সুতরাং মূসা আলাইহিস্্ সালাম-এর অনুসারীরা অর্থাৎ ইহুদী সম্প্রদায় হযরত ঈসা আলাইহিস্্ সালাম-এর অনুসারীরা অর্থাৎ নাসারা বা খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং আখিরী নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসারীরা অর্থাৎ মুসলমানগণ সবারই মূল হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্্ সালাম। আর যেহেতু হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম স্বয়ং কা’বা ঘরের পুনঃ নির্মাণ করেন। শুধু তাই নয় এখনও যার পবিত্র ক্বদম মুবারকের ছাপ পবিত্র কা’বা শরীফের পার্শ্বেই রক্ষিত আছে যাকে আমরা মাক্বামে ইব্রাহীম বলি, সেই কা’বা শরীফের গুরুত্ব যে কত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং সকল আহলে কিতাবের কাছেই এই কা’বা শরীফের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।

(ঙ) যে স্থানটি ছাড়া আর কোন স্থানের এতটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই:
সমস্ত পৃথিবীতে আজ প্রায় ৬৫০ কোটি মানুষ। এই পৃথিবীতে গত হয়ে গেছে হাজার হাজার বছরের সভ্যতা। চলে গেছে অগনিত অসংখ্য মানুষ। পৃথিবীতে রয়েছে অনেক দেশ, অনেক জাতি, অনেক ভাষা। নানা বর্ণের নানা আকৃতির অসংখ্য অগণিত মানুষ। এই সকল বর্ণের, সকল গোত্রের, সকল জাতির যিনি আদি পিতা তিনি প্রথম মানুষ, প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস্্ সালাম। যিনি প্রথম মানুষ তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন কিছুর ইতিহাসের চেয়ে পুরনো কোন ইতিহাস নেই, থাকতে পারে না। তথাপি বলা চলে কা’বা শরীফ বা বায়তুল্লাহর ইতিহাস তার চেয়েও পুরনো কেননা সৃষ্টির দু’হাজার বছর পূর্ব থেকেই কা’বা শরীফের এলাকা তাওয়াফ করেছেন ফেরেশ্্তাকুল। পরে সেখানে হযরত আদম আলাইহিস্্ সালাম কা’বা ঘর নির্মাণ করেন। যদি কোন কারণে কোন স্থানকে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে নির্বাচন করা হয় তবে প্রথম গুরুত্ব পাবে বায়তুল্লাহ বা কা’বা শরীফ যার চেয়ে ঐতিহাসিক কোন স্থান এই যমিনে নেই।


পবিত্র কা’বা শরীফের অবস্থান ০০ ডিগ্রী ০ মিনিট ০ সেকেন্ড ডিগ্রী দ্রাঘিমা ধরে ১৫০ ডিগ্রী অন্তর অন্তর সময় অঞ্চলে ভাগ করাই সর্বোত্তমঃ

এক সময় ব্রিটিশরা পৃথিবীতে কিছুটা আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছিল বলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীতায় গ্রীনিচের রয়াল অবজারভেটরি থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করে এবং ১৫০ ডিগ্রী অন্তর অন্তর সময় অঞ্চলে বিভক্ত করে বিভিন্ন দেশের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে বহুদেশ বৃটিশদের এরূপ ভাগ করা সময় অঞ্চলের সময়ে অর্থাৎ এগঞ অনুযায়ী তাদের সময়কে সে সময় নিরুপন করেনি। বরং পরবর্তীতে অনেক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে এই গ্রীনিচ সময় প্রতিষ্ঠা পায়। সময় অনেক গড়িয়ে গেলেও মুসলমানদের হৃদয়ে আছে রক্ত ক্ষরণ। খিলাফত থাকলে গ্রীনিচ নয় বরং কা’বা শরীফ থেকেই প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করে সময় অঞ্চলে ভাগ করে সময় গণনা শুরু হতো। যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করেন তবে মক্কা শরীফ থেকেই একদিন শুরু হবে সময় গণনা। ইনশাআল্লাহ।
 যেহেতু পৃথিবীকে গোলাকার ধরেই ৩৬০০ ডিগ্রীতে ভাগ করে গ্রীনিচকে ০০ ডিগ্রী ০ মিনিট ০ সেকে- অবস্থানে কল্পনা করা হয়েছে। সুতরাং পবিত্র কা’বা শরীফের উপর দিয়ে চৎরসব গবৎরফরধহ কল্পনা করত, সমস্ত অঞ্চলকে কা’বা শরীফ কেন্দ্রিক সময় অঞ্চলে ভাগ করাই যথার্থ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।




যদি GMT পরিবর্তিত হয়ে  KMT হয় তবে গ্রিনিচের পরিবর্তে কাবা শরীফ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা সম্ভব এবং উচিত।

যদি GMT পরিবর্তিত হয়ে  UTC  হয় তবে গ্রিনিচের পরিবর্তে কাবা শরীফ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা সম্ভব এবং উচিত।
বর্তমানে স্থানীয় সময় নির্ধারণে যে আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারক রয়েছে তাকে বলা হয় টঞঈ (UTC (Coodianated Universal Time)। আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারক হিসেবে এগঞ -এর এখন কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৭২ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকেই এগঞ (এএৎববহরিপয গবধহ ঞরসব) এর পরিবর্তে টঞঈ ব্যবহৃত হচ্ছে। যখন গ্রিনিচ মেরিডিয়ানের উপর সূর্য থাকে তখন দুপুর ১২টা ধরে পৃথিবীর সকল অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিলো। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন গতির কারণে সূর্য যখন পুনরায় মাথার উপর আসে তখন সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য হয় ১৬ মিনিট। এ সকল অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যে টঞঈ ব্যবহৃত হতে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর সকল সময় অঞ্চল এখনও গ্রিনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান ধরে নির্ণয় করা আছে। গ্রিনিচকে দ্রাঘিমা ০ ডিগ্রি ধরে সেখান থেকে ১৫ ডিগ্রি অন্তর অন্তর ভাগ করে সমস্ত পৃথিবীকে ২৪টি সময় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। ফলে আমরা যখন ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখি দুপুর ১২টা তখন গ্রিনিচে সময় সকল ৬টা। গ্রিনিচের পূর্বের দেশগুলোর সময় ভাগ করা হয়েছে গ্রিনিচের সাথে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা যোগ করে এবং গ্রিনিচের পশ্চিমের দেশগুলোর সময় ভাগ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা বিয়োগ করে। যদিও রাজনৈতিক কারণে এই সময় অঞ্চল ২৪টি থেকে ৩৯টি হয়েছে।
মুসলমানদের উচিত কাবা শরীফকে কেন্দ্র ধরে পৃথিবীর ডানে ও বায়ের সকল সময় অঞ্চল নির্ধারণ করা। কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে পৃথিবীর প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা উচিত। গ্রিনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই।
পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন স্থানে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে আমি পৃথিবীর কেন্দ্রে আছি তার দাবি একদিক থেকে সত্য। কেননা, সেই স্থানের ডানদিক থেকে যে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে সে তার অবস্থানে আসতে পারবে একইভাবে বামদিক থেকে ঠিক সে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে। সুতরাং পৃথিবীর যে কোন স্থানের উত্তর-দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে কল্পনা করা যায়।
কেউ যদি পৃথিবীর কোন একটি স্থানে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করে নেয় এবং সেই কল্পিত রেখার দু’পাশে পা প্রশস্ত করে দিয়ে ভাবে তার একটি পা পূর্ব গোলার্ধে এবং অন্য পা পশ্চিম গোলার্ধে তবে তার এ ধারণাটিও সত্য। যদিও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। কেননা, সে স্থানের কোন ধর্মীয়, ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। সুতরাং পৃথিবীর এমন একটি স্থানের উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা স্থির করা উচিত, যে স্থানটির ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব আছে। আর তা হচ্ছে কাবা শরীফ। কাবা শরীফ এমন একটি স্থান যে স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম। যে স্থানের পবিত্রতা অপরিসীম। যে স্থানটি পূর্ব-পশ্চিমে সবার কাছে পরিচিত এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচিত। সকল আহলে কিতাবের কাছে যে স্থানের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। যে স্থানটি ছাড়া আর কোন স্থানের এতটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। কাবা শরীফকে কেন্দ্র ধরে যখন পৃথিবীর সকল সময় অঞ্চল নির্ধারণ করা হবে তখন যে কোন স্থানের স্থানীয় সময় হবে, (KTM) + (কাবা শরীফ কেন্দ্রিক রচিত টাইম জোন) অথবা (KTM) Ñ (কাবা শরীফ কেন্দ্রিক রচিত টাইম জোন)।Prime Meridian


পবিত্র কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার অবস্থান হয় সুবিধাজনক স্থানে।



গ্রীনিচের উপরে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা অযৌক্তিক এবং প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাও আঁকাবাঁকা।
পবিত্র কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার অবস্থান হয় সুবিধাজনক স্থানে। গ্রীনিচের উপরে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা অযৌক্তিক এবং প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাও আঁকাবাঁকা।”
  গ্রীনিচের সাথে কয়েকটি বিষয় জড়িত।
১. গ্রীনিচের সময় থেকে যোগ ও বিয়োগ করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সময় নির্ণয় করা হয়েছে। যেমন (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) = (গ্রীনিচ সময়) + (৬ ঘণ্টা)।
২. গ্রীনিচকে ০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায় স্থির করায় ১৮০ ডিগ্রী পূর্ব এবং ১৮০ ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বর্তমানে যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International date line)
৩.  গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করায় গ্রীনিচের অবস্থান ০ ডিগ্রী দ্রাঘিমায়।
সূর্য যখন কোন স্থানের ঠিক মাথার উপরে আসে তখন মধ্যাহ্ন হয়, একে বলে  ঝঁহ ঞরসব। পরের দিন সূর্য যখন আবার মাথার উপর আসবে তখন আবার মধ্যাহ্ন হবে। কিন্তু  ঘড়ি অনুযায়ী অর্থাৎ Clock Time অনুযায়ী একই সময়ে মধ্যাহ্ন হয় না। এই সূর্য সময় এবং ঘড়ি সময়ের সর্বোচ্চ পার্থক্য হয় ফেব্রুয়ারিতে ১৪ মিনিটের মত তখন ঘড়ির সময়ের চেয়ে সূর্য সময় ১৪ মিনিট পিছিয়ে থাকে। আবার নভেম্বরে সময়ের পার্থক্য হয় সর্বোচ্চ ১৬ মিনিট; তখন সূর্য সময় ঘড়ির সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। এ সকল অসুবিধা দূর করার জন্যে এখন Atomic Clockব্যবহার করা হয়।  এই Atomic Clock এর সময় অনুযায়ী তৈরি হয়েছে UTC (Co-ordinated Universal Time)| ফলে ১৯৭২ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে GMT এর পরিবর্তে UTC ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করায় তার সাপেক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় সময় GMT এর পরিবর্তে UTC হলেও সময় অঞ্চলগুলোর বিভক্তি পূর্বের মতই রয়ে গেছে। কিন্তু গ্রীনিচের উপর প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। ফলে পবিত্র কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নতুন করে বিভিন্ন সময় অঞ্চল স্থির করা উচিত।

গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করায় আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হচ্ছে ১৮০ ডিগ্রী পূর্ব এবং ১৮০ ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখার সংযোগস্থলে। এই তারিখ রেখার পশ্চিমে রয়েছে উত্তর গোলার্ধে রাশিয়া এবং দক্ষিণ গোলার্ধে নিউজিল্যান্ড। এই তারিখ রেখা সরাসরি উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে নেমে যেতে পারেনি। যখনই জনবসতিপূর্ণ এলাকার উপরে এসেছে তখনি ঠেলে দেয়া হয়েছে পানির দিকে। ১৮০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা রেখা বিচ্যুত সময় রেখার অংশগুলো হলো বেরিং প্রণালী, এলিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমাংশ, ফিজির পূর্বাংশ ইত্যাদি। বর্তমান অবস্থানে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা থাকায় যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে তার কিছু নমুনা দেয়া যেতে পারে।
ফিজি ১৮০ ডিগ্রী দ্রাঘিমার পশ্চিমে আর টোঙ্গা, সেমওয়া ১৮০ ডিগ্রী পূর্বে। আর কিরিবাতি দ্বীপকে ১৮০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা রেখা দ্বি-ভাগ করেছে। কিন্তু ফিজি, টোঙ্গা এবং কিরিবাতি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পশ্চিমে অবস্থান নিয়েছে আর সেমওয়া অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পূর্বে। টোঙ্গা এবং সেমওয়ার সময় একই থাকলেও ১ দিনের পার্থক্য রয়েছে। আবার ফিজি এবং টোঙ্গা কাছাকাছি হলেও ফিজির সময় টোঙ্গার সময়ের চেয়ে ১ ঘণ্টা পিছিয়ে। আবার সেমওয়ার চেয়ে অনেক পূর্বে হাওয়াই দ্বীপের অবস্থান হলেও সময়ের পার্থক্য মাত্র ১ ঘণ্টা। এছাড়া ১৯৯৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত কিরিবাতি দ্বীপে তারিখ নিয়ে ছিল গরমিল। একই দ্বীপে দুইটি তারিখ প্রচলিত ছিল। কিরিবাতির পশ্চিমাংশ সবসময় পূর্বাংশ থেকে এক দিন এগিয়ে থাকতো। সপ্তাহের মাত্র ৪ দিন দুই অংশের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজ কর্ম সম্পাদন হতো। এ সকল সমস্যার সমাধানের জন্য ১৯৯৫ সালের পহেলা জানুয়ারিতে কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট টিবুরোর টিটো আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখাকে কিরিবাতির পূর্বে সরিয়ে নেবার ঘোষণা দেন। কিন্তু কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে ১৮০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা বা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা যাবে আলাস্কা এবং কানাডার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে (বর্তমান ১৪০ ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বরাবর)। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে নিচে নেমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে দক্ষিণ গোলার্ধে চলে যাবে। সম্পূর্ণ তারিখ রেখাটি যাবে পানির উপর দিয়ে ফলে স্থলভাগের ডানে ও বামে তারিখ রেখা সরিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন পড়বে না।
গ্রীনিচের পরিবর্তে পবিত্র কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করাটাই যুক্তিসঙ্গত। যদিও গ্রীনিচের পূর্বে অনেক স্থানকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে স্থির করা হয়েছিল যেমন- প্যারিস, লিসবন, জেরুজালেম, অসলো, মাদ্রিদ ইত্যাদি। গ্রীনিচের বর্তমান স্থানের পূর্বেও আরও দু’টি স্থানের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা হয়েছিল। ফ্রান্স বহুদিন যাবৎ গ্রীনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং প্যারিসকে প্রাইম মেরিডিয়ান ধরেই গণনা করতো। পরবর্তীতে গ্রীনিচকে মেনে নিয়ে এগঞ ব্যবহার শুরু করলেও পরবর্তীতে আবার সে চলে যায় ঈঊঞ (ঈবহঃৎধষ ঊঁৎড়ঢ়বধহ ঞরসব) -এ ।
ফ্রান্সের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান (০ ডিগ্রী) চলে গেলেও তারা গ্রীনিচ টাইম না ধরে ১৫ ডিগ্রী পূর্বে যে সময় অর্থাৎ ঈবহঃৎধষ ঊঁৎড়ঢ়বধহ ঞরসব কে ধরে গণনা করছে।
সুতরাং পুনরায় কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা সহজেই সম্ভব এবং যুক্তিসঙ্গত। তখন আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাসহ সকল বিষয়ের সহজ সমাধান পাওয়া যাবে। আল্লাহ পাকতো পূর্বেই ইরশাদ করেছেন “কাবা শরীফ মানবজাতির জন্য পথ প্রদর্শক।” সুতরাং পৃথিবীর প্রায় সোয়া দুইশ’ কোটি মুসলমানের এ বিষয়ে সজাগ ও সোচ্চার হওয়া উচিত।
-0-

কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, কাবা শরীফ মানব জাতির জন্য নির্মিত প্রথম ঘর।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, কাবা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম যমীন|








কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অনুসরণ করতে হলে বিশ্বের সব দেশের মুসলমানদেরকে গ্রীনিচের পরিবর্তে কাবা শরীফ থেকেই প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নিয়ে সকল ‘টাইম জোন’ নির্ণয় করতে হবে ॥

কুরআন শরীফ-এর সূরা আল ইমরান-এর ৯৬ নম্বর আয়াত শরীফ-এ রয়েছে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- “কাবা শরীফ মানব জাতির জন্য নির্মিত প্রথম ঘর। মক্কা শরীফ নিয়ামত দ্বারা পরিপূর্ণ এবং মানুষ ও জ্বিন জাতির জন্য পথ প্রদর্শক।” এই আয়াত শরীফ থেকে মুসলমানদের অনুধাবন করতে হবে যে, যেহেতু কুরআন শরীফ-এর কাবা শরীফকে পথ প্রদর্শক বলা হয়েছে, সুতরাং মানব জাতির বিভিন্ন বিষয়ের পথ প্রদর্শন যেমন সময় নিরূপণ করা, নামাযের সময়সূচি নির্ণয় করা, গন্তব্য ঠিক করা, যাতায়াত করা- এ সমস্ত কাজ কাবা শরীফকে কেন্দ্র করেই করতে হবে এবং এর মধ্যেই মঙ্গল বা কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
যেমন মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাহলে জীবনের সকল বিষয়েই আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অনুসরণ করতে হবে।
কুরআন মজীদ প্রথম নাযিল হয় মক্কা শরীফ-এ। মক্কা শরীফ-এ প্রথম ইসলামের প্রচার শুরু হয় এবং প্রথম ইসলাম কবুলকারী ছাহাবা আজমাইনগণও মক্কা শরীফ-এর অধিবাসী। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ইসলাম পূর্বে-পশ্চিমে উত্তর-দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং কাবা শরীফকে কেন্দ্র ধরে, তার উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে, তার সাপেক্ষে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zoneভাগ করলে এর মধ্যেই থাকবে রহমত, রবকত ও কল্যাণ। এছাড়াও কাবা শরীফকে যেহেতু আসমান ও যমীনের কেন্দ্র বলা হয়েছে, সুতরাং মুসলমানদের উচিত কাবা শরীফ-এর সময় সাপেক্ষে পৃথিবীর সকল দেশের বা সকল অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করে কাবা শরীফ-এর প্রতি পরিপূর্ণ আদব প্রকাশ করা।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কাবা শরীফ ছিল পানির উপর একটি ছোট পাহাড় এবং তার নিচ দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়।” অর্থাৎ কাবা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু ছিল পৃথিবীর প্রথম যমীন যা বিশাল সাগরের মাঝে সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই পবিত্র স্থানের চর্তুপার্শ্বে তা বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং প্রথমে একটি বিশাল মহাদেশের সৃষ্টি হয়। সে কারণে মক্কা শরীফকে বলা হয় উম্মুল কুরা। বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে বর্তমানে যে সাতটি মহাদেশ আছে সেগুলো মূলতঃ একটি মহাদেশ আকারে ছিল; যাকে বলা হয় Mather Continent ev Pangaeaপরবর্তীতে এগুলো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরতে শুরু করে এবং সরতে সরতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে।
হাদীছ শরীফ এবং বিজ্ঞানের মাধ্যমেও এটি স্পষ্ট যে, এই পৃথিবীর বিস্তৃতিও ঘটেছে কাবা শরীফ থেকে। সুতরাং যেখানে আল্লাহ পাক এই কাবা শরীফকে প্রথম সৃষ্টি করে মানব জাতির পথ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারণ করলেন, যেখানে এই কাবা শরীফকে ধারণকারী মক্কা শরীফ থেকে ইসলাম পৃথিবীব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে, যেখানে এই কাবা শরীফ থেকেই পৃথিবীর যমীন বিস্তার লাভ করেছে; তাহলে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zoneকেন এই কাবা শরীফ থেকেই চর্তুপার্শ্বে নির্ধারিত হবে না? বরং এটাই সত্য যে, কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zone) নির্ধারণ করলে তা কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ-এর স্পষ্ট অনুসরণ করা হবে। তখন এর মধ্যে থাকবে রহমত, বরকত ও সাকিনা।
কাবা শরীফ যেহেতু সউদী আরবে অবস্থিত; ফলে সউদী সরকারকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে। অর্থাৎ সউদী সরকারেরই এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখা অতীব জরুরী। মহান আল্লাহ পাক তাদেরকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যকর ভূমিকা রাখার তওফীক দান করুন। মহান আল্লাহ পাক-ই তৌফিক দানের প্রকৃত মালিক। (আমীন)

* কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফ-এর অনুসরণ করতে হলে বিশ্বের সব দেশের মুসলমানদেরকে গ্রীনিচের পরিবর্তে কাবা শরীফ থেকেই প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নিয়ে সকল টাইম জোননির্ণয় করতে হবে
* মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কাফির, মুশরিক তথা ইহুদী, নাছারা মুশরিকদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করো না
* আর হাদীছ শরীফ- ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি তাদেরই দলভুক্ত বলে গণ্য হবে
* কাজেই মুসলমানদের জন্য সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কাফির, মুশরিক, ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করা কস্মিনকালেও শরীয়তসম্মত হবে না